শেয়ার করুন

উদ্দেশ্য

সারা বিশ্বে শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে পাল্টে গেছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতি ছাড়া আর উপায় নেই। বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার অবস্থার দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হবে যে, বেশিভাগই বই কেনে না, বই হয়তো বাজারে পাওয়া যায় না, কিংবা কেনার সামর্থ্য থাকে। বর্তমান সময়ে বই না লাগলেও একটা ডিভাইস যে লাগবে, সেটা নিশ্চিত। শিক্ষার অসংখ্য উপকরণ এখন শিক্ষার্থীরা চাইলেই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারে। তাই বর্তমান সময়ের ছাত্রছাত্রীদের একটি ডিভাইস হলে তার শিক্ষা কার্যক্রম আরও উন্নত হতে পারে।


বাংলাদেশ এখনও ধনী দেশ হয়ে ওঠেনি। এ দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ডিজিটাল ডিভাইস পেয়ে যাবে, সেটা সম্ভব নয়। এটা সরকারের পক্ষে দেওয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি ছাত্রছাত্রীদের পক্ষেও কেনা সম্ভব নয়। বেশিরভাগ পরিবার তাদের সন্তানদের ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ কিনে দিতে পারবে না–এটাই বাস্তবতা। এমন লাখ লাখ পরিবার পাওয়া যাবে, যাদের পরিবার একটা ল্যাপটপ কিনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না।


তাহলে উপায়! এই বিশাল জনসংখ্যা তাহলে ডিজিটাল ডিভাইস পাবে না বলে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়বে? আসলেই কিন্তু পিছিয়ে পড়ছে। এই গ্রহের অন্য দেশের ছেলেমেয়েরা যা শিখছে, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা সেটা পাচ্ছে না। যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে পারছে, তারা কিছুটা পাচ্ছে। কিন্তু সবাই তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারবে না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারলেই তার যে একটা ল্যাপটপ থাকবে, সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের পরিবারগুলোর তো সেই সক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি।


শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ল্যাপটপের চাহিদা জানতে https://priyo.org ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ প্রয়োজন, তারা এই ঠিকানায় গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। এতে ল্যাপটপের চাহিদা ও সক্ষমতা জানা যাবে। আবেদন করলেই যে ল্যাপটপ পাওয়া যাবে, তা কিন্তু নয়। একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই ল্যাপটপগুলো দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় কতগুলো ল্যাপটপ কোথা থেকে পাওয়া গেছে এবং কাকে কাকে দেওয়া হয়েছে, সব তথ্যই ওই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটটি এখনও নির্মাণাধীন, আপাতত শুধু আবেদন করা যাবে। তবে শিগগিরই অন্যান্য তথ্য যুক্ত করা হবে।


ল্যাপটপ বিতরণের এই প্রক্রিয়ায় নতুন ল্যাপটপের পাশাপাশি পুরাতন বা ব্যবহৃত ল্যাপটপও দেওয়া হবে। তবে পুরাতন ল্যাপটপগুলো ব্যবহারযোগ্য হলেই আমরা সেগুলো বিতরণ করব।


যাদের ল্যাপটপ প্রয়োজন, তাদেরকে আগামী ২৬শে মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

© ২০২১ প্রিয় ॥ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত